NTRCA 7th Special Recruitment 2026: Only 21,000 Applicants Against 67,208 Vacancies; Result Likely in January
এনটিআরসিএ ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি ২০২৬: আবেদনের পরিসংখ্যান ও ফলাফলের তারিখ
- আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
NTRCA 7th Circular Result 2026: বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সপ্তম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে (বিশেষ) এক নজিরবিহীন পরিসংখ্যান দেখা গেছে। দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৬৭ হাজার ২০৮টি শূন্য পদ থাকলেও, তার বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ২১ হাজার। অর্থাৎ, প্রতি তিনটি পদের জন্য গড়ে প্রার্থী রয়েছেন মাত্র একজন। বিষয়টি এনটিআরসিএর ইতিহাসে বিরল এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য বিস্ময়কর।
এনটিআরসিএ ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি ২০২৬
গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং উপপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুর রহিম খোন্দকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সবকিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে চলতি জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে।
আবেদনের পরিসংখ্যান: পদ বেশি, প্রার্থী কম
এনটিআরসিএর তথ্যমতে, গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শুরু হওয়া এই বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির আবেদন প্রক্রিয়া চলে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। সাধারণত এনটিআরসিএর বিজ্ঞপ্তি মানেই লাখো প্রার্থীর দীর্ঘ লাইন, কিন্তু এবার চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এ বিষয়ে এনটিআরসিএর শিক্ষা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুর রহিম খোন্দকার বলেন, “বিশেষ বিজ্ঞপ্তি হওয়ায় এবার আবেদন তুলনামূলক কম পড়েছে। টেলিটকের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর বিস্তারিত পরিসংখ্যান জানা যাবে।”
একনজরে ৭ম গণবিজ্ঞপ্তির চিত্র:
| বিবরণ | পরিসংখ্যান |
| মোট শূন্য পদ | ৬৭,২০৮টি |
| মোট আবেদন জমা | প্রায় ২১,০০০ |
| আবেদনের ধরণ | বিশেষ (Special) |
| আবেদন গ্রহণ শেষ | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ |
| সম্ভাব্য ফল প্রকাশ | জানুয়ারি ২০২৬-এর শেষ সপ্তাহ |
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
- শুধুমাত্র বৈধ এবং সঠিক তথ্য প্রদানকারী প্রার্থীদেরই চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য বিবেচনা করা হবে।
- শূন্য পদের বিপরীতে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে সেই পদগুলো পরবর্তীতে ৮বম গণবিজ্ঞপ্তিতে যুক্ত করা হতে পারে।
- এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এই ফলাফল প্রকাশ বা বিজ্ঞপ্তি বাতিলের অধিকার সংরক্ষণ করেন।
কেন এই অসামঞ্জস্য? নেপথ্যের কারণ
শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিপুল সংখ্যক পদের বিপরীতে এত কম আবেদনের পেছনে কয়েকটি যৌক্তিক ও কাঠামোগত কারণ রয়েছে:
১. পূর্ববর্তী নিয়োগের প্রভাব: ৪র্থ ও ৫ম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক নিবন্ধনধারী ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। ফলে বেকার নিবন্ধনধারীর সংখ্যা কমে এসেছে। ২. বিষয়ভিত্তিক সংকট: বিজ্ঞান (পদার্থ, রসায়ন), গণিত ও ইংরেজির মতো বিষয়গুলোতে দেশে নিবন্ধনধারী শিক্ষকের সংকট দীর্ঘদিনের। বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়গুলোর পদসংখ্যা বেশি থাকায় পর্যাপ্ত প্রার্থী পাওয়া যায়নি। ৩. শর্তের বেড়াজাল: যেহেতু এটি ‘বিশেষ বিজ্ঞপ্তি’, তাই এতে ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত ছিল বা নির্দিষ্ট কোটাভিত্তিক পদ বেশি ছিল, যা সাধারণ প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ সংকুচিত করেছে।
ফলাফল প্রক্রিয়া ও পরবর্তী করণীয়
এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, কারিগরি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করছে। যেহেতু প্রার্থীর সংখ্যা পদের চেয়ে অনেক কম, তাই ফলাফল প্রসেসিংয়ে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়।
ফলাফল দেখার নিয়ম: ফল প্রকাশের পর প্রার্থীরা http://ngi.teletalk.com.bd ওয়েবসাইট থেকে নিজেদের স্ট্যাটাস জানতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীদের মোবাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টেলিটক থেকে এসএমএস (SMS) পৌঁছে যাবে।
নির্বাচিতদের যা করতে হবে: যেহেতু প্রতিযোগিতা নেই বললেই চলে, তাই আবেদনকারীদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ (যদি সনদ সঠিক থাকে)। ফল প্রকাশের পরপরই প্রার্থীদের অনলাইনে পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম (V-Roll) পূরণ করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের ছাড়পত্র পাওয়ার পর চূড়ান্ত সুপারিশপত্র ইস্যু করা হবে এবং প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে পারবেন।
এ বিষয়ে এনটিআরসিএর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চাই দ্রুততম সময়ে এই শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠাতে। তাই প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে চলতি মাসেই ফল প্রকাশের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।”
প্রার্থীদের জন্য সতর্কতা ও পরামর্শ
এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ চাকরিপ্রত্যাশীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, নিয়োগ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য দালালের প্ররোচনায় না পড়ে শুধুমাত্র এনটিআরসিএর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করতে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক এবং অটোমেশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, তাই এখানে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন: ৪৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল: পিএসসির ঘোষণা, জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ









