ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
দালালকে ১ টাকাও দেবেন না! বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি ২০২৬ এর সহজ হিসাব সরকারি বেতন কাঠামো ২০২৬: সর্বনিম্ন ২০ হাজার, বাড়ছে পেনশন ও ভাতা পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম (V-Roll) পূরণের নিয়ম: অনলাইনে যেভাবে করবেন এনটিআরসিএ ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি ২০২৬: আবেদনের পরিসংখ্যান ও ফলাফলের তারিখ ৪৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল: পিএসসির ঘোষণা, জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ এসএসসি রুটিন ২০২৬ প্রকাশ: পরীক্ষা শুরু ২১ এপ্রিল, দেখুন সময়সূচি ও নির্দেশাবলি অনার্স ১ম বর্ষের রেজাল্ট প্রকাশ: পাসের হার ৮৭.০৪%, ফলাফল দেখার নিয়ম ও পরবর্তী করণীয় শাবিপ্রবি ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬: আবেদনের সময় বাড়ল ৫ দিন, দেখুন বিস্তারিত গাইডলাইন ও আসন বিন্যাস এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার: শিক্ষার্থীরা সময় পাবেন ১৫ মিনিট বেশি, কঠোর নির্দেশনা গুচ্ছ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২৬: আবেদন ১০ ডিসেম্বর, পরীক্ষা শুরু ২৭ মার্চ | ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা

অফিস সহায়ক এর কাজ ও প্রস্তুতি | যোগ্যতা ও বেতন স্কেল

অফিস সহায়ক এর কাজ কি? যোগ্যতা, বেতন ও পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি গাইডলাইন

আগামী স্কিল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৪০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

অফিস সহায়ক এর কাজ ও প্রস্তুতি: বাংলাদেশে সরকারি চাকরির বিশাল বাজারে ২০তম গ্রেডের ‘অফিস সহায়ক’ (Office Sohayok) পদটি এখন আর অবহেলার বিষয় নয়। একটা সময় একে ‘এমএলএসএস’ (MLSS) বা পিয়ন বলা হতো, কিন্তু সরকার এর নাম ও মর্যাদা পরিবর্তন করে ‘অফিস সহায়ক’ করেছে। প্রতি বছর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে হাজার হাজার কর্মী এই পদে নিয়োগ পায়।

অফিস সহায়ক এর কাজ ও প্রস্তুতি

কিন্তু আবেদন করার আগে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে—আসলে একজন অফিস সহায়কের কাজ কী? এটি কি শুধুই ফাইলের কাজ নাকি অন্য কিছু? এবং এই তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে মাত্র একটি এসএসসি সার্টিফিকেটে কীভাবে চাকরিটি পাওয়া সম্ভব? আজকের গাইডে আমরা এই পদের আদ্যোপান্ত এবং প্রস্তুতির A-Z রোডম্যাপ আলোচনা করব।

অফিস সহায়ক এর কাজ কি?

অনেকের ধারণা, অফিস সহায়কের কাজ শুধুই চা-পানি খাওয়ানো। এটি ভুল ধারণা। এটি একটি দাপ্তরিক পদ এবং এর নির্দিষ্ট কিছু Administrative Duties রয়েছে।

একজন অফিস সহায়কের মূল দায়িত্বগুলো হলো: ১. ফাইল ব্যবস্থাপনা: অফিসের নথিপত্র বা ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে (কর্মকর্তাদের কাছে) পৌঁছে দেওয়া। ২. ডাক ও চিঠি বিলি: অফিসের অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক চিঠি এবং নোটিশ নির্দিষ্ট দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া। ৩. অফিস সাজসজ্জা: কর্মকর্তার রুম বা অফিস কক্ষ গুছিয়ে রাখা এবং আসবাবপত্র ঠিকঠাক আছে কিনা দেখা। ৪. ফোটোকপি ও বাইন্ডিং: জরুরি কাগজপত্র ফোটোকপি করা এবং সেট সাজানো। ৫. আপ্যায়ন: মিটিং চলাকালীন বা মেহমান আসলে চা-নাস্তা পরিবেশনে সহায়তা করা। ৬. কর্মকর্তাকে সহায়তা: ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দাপ্তরিক কাজে তাৎক্ষণিক নির্দেশ পালন করা।

সহজ কথায়, একটি অফিসের Workflow সচল রাখতে অফিস সহায়ক ইঞ্জিনের লুব্রিকেন্টের মতো কাজ করেন।

আরও পড়ুন: স্নাতক ভর্তিসহায়তা বৃত্তি: বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ

যোগ্যতা ও বয়সসীমা

অফিস সহায়ক পদে আবেদনের যোগ্যতা খুব সাধারণ হওয়ায় প্রতিযোগিতা অনেক বেশি হয়।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রার্থীকে কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে এসএসসি (SSC) বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। (কিছু কিছু দপ্তরে ৮ম শ্রেণি পাস চাওয়া হলেও বর্তমানে এসএসসি স্ট্যান্ডার্ড হয়ে গেছে)।
  • জিপিএ: সাধারণত নির্দিষ্ট জিপিএ চাওয়া হয় না, পাস করলেই আবেদন করা যায়।
  • বয়সসীমা: সাধারণ প্রার্থীদের জন্য ১৮ থেকে ৩০ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী কোটার ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ৩২ বছর।
  • শারীরিক যোগ্যতা: সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে (বড় কোনো শারীরিক সমস্যা থাকা যাবে না)।

বেতন ও সুযোগ-সুবিধা

জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী অফিস সহায়ক একটি ২০তম গ্রেডের পদ।

  • বেতন স্কেল: ৮,২৫০ – ২০,০১০ টাকা।
  • শুরুর মূল বেতন (Basic): ৮,২৫০ টাকা। এর সাথে যুক্ত হবে:
  • বাড়ি ভাড়া: বেসিকের ৪৫%-৬৫% (এলাকাভেদে)।
  • চিকিৎসা ভাতা: ১,৫০০ টাকা।
  • যাতায়াত ও টিফিন ভাতা: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।
  • মোট প্রাপ্তি: চাকরির শুরুতে সাকুল্যে বেতন প্রায় ১৫,০০০ – ১৭,০০০ টাকা হতে পারে। এছাড়াও সরকারি চাকরির পেনশন, গ্রাচুইটি এবং ঈদ বোনাস তো থাকছেই।

নির্বাচন পদ্ধতি ও পরীক্ষার ধরণ

সাধারণত দুটি ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়: ১. লিখিত পরীক্ষা (Written Exam): ৪০, ৫০ বা ৭০ নম্বরের পরীক্ষা হয় (দপ্তরভেদে ভিন্ন হতে পারে)। এটি সাধারণত এমসিকিউ (MCQ) বা লিখিত (Written) উভয়ই হতে পারে। ২. মৌখিক পরীক্ষা (Viva Voce): লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ২০ বা ৩০ নম্বরের ভাইভা নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: হাজী দানেশ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৬: আসন সংখ্যা, যোগ্যতা, ফি ও পরীক্ষার তারিখ

অফিস সহায়ক পরীক্ষার প্রস্তুতি কৌশল

যেহেতু যোগ্যতা এসএসসি পাস, তাই প্রশ্ন সাধারণত ৮ম থেকে ১০ম শ্রেণির মানের হয়। তবে প্রতিযোগিতা বেশি হওয়ায় প্রস্তুতি হতে হবে নিখুঁত।

১. বাংলা (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)

অধিকাংশ প্রশ্ন বাংলা ব্যাকরণ থেকে আসে।

  • টপিক: সন্ধি বিচ্ছেদ, এক কথায় প্রকাশ, বাগধারা, সমার্থক শব্দ, বানান শুদ্ধি এবং কারক-বিভক্তি।
  • টিপস: ৯ম-১০ম শ্রেণির পুরোনো ব্যাকরণ বই এবং ‘সৌমিত্র শেখরের’ বই থেকে মুখস্থ টপিকগুলো পড়ে ফেলুন।
  • সাহিত্য: রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এবং বিখ্যাত কবিদের জন্ম-মৃত্যু ও বিখ্যাত বইয়ের নাম।

২. গণিত (পার্থক্য গড়ার জায়গা)

অনেকেই গণিতে দুর্বল থাকেন, তাই এখানে ভালো করলেই চাকরি নিশ্চিত।

  • পাটিগণিত: ঐকিক নিয়ম, শতকরা, সুদকষা, লসাগু-গসাগু এবং মান নির্ণয়। (৮ম শ্রেণির গণিত বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)।
  • বীজগণিত: সাধারণ সূত্রাবলি ও মান নির্ণয়।
  • জ্যামিতি: ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ ও বৃত্তের সংজ্ঞা ও সূত্র।

৩. ইংরেজি (ভয়ের কারণ নেই)

খুব গভীর গ্রামার আসে না, বেসিক ঠিক থাকলেই চলে।

  • টপিক: Translation (বাংলা থেকে ইংরেজি), Preposition, Idioms & Phrases, Number & Gender change, Paragraph writing (Padma Bridge, Metro Rail type).
  • টিপস: বিগত সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ও অফিস সহায়ক পদের প্রশ্নগুলো সলভ করুন।

৪. সাধারণ জ্ঞান (চলতি বিশ্ব ও বাংলাদেশ)

  • বাংলাদেশ: মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, সংবিধান, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল।
  • আন্তর্জাতিক: রাজধানী, মুদ্রা, এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধ বা ঘটনা।
  • কম্পিউটার: এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল এবং হার্ডওয়্যার সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন।

“অনেকে এই পদটিকে ছোট করে দেখেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো—বর্তমানে মাস্টার্স পাস ছেলেমেয়েরাও এই পদের জন্য আবেদন করছেন। কারণ, এটি একটি স্থায়ী সরকারি চাকরি। তাই যারা এসএসসি পাস করেই আবেদন করছেন, তাদের লিখিত পরীক্ষায় অন্তত ৮০ শতাংশ নম্বর তোলার টার্গেট রাখতে হবে।”

আরও পড়ুনস্নাতক ভর্তিসহায়তা বৃত্তি: বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “অফিস সহায়ক এর কাজ কি? যোগ্যতা, বেতন ও পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি গাইডলাইন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মিজানুর রহমান হলেন Agami Skill-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান লেখক। একজন পেশাদার ক্যারিয়ার পরামর্শদাতা ও চাকরি বিশেষজ্ঞ হিসেবে, তিনি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের মাধ্যমে ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেন।
ট্যাগস :

অফিস সহায়ক এর কাজ ও প্রস্তুতি | যোগ্যতা ও বেতন স্কেল

অফিস সহায়ক এর কাজ কি? যোগ্যতা, বেতন ও পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি গাইডলাইন

আপডেট সময় : ০১:৪০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

অফিস সহায়ক এর কাজ ও প্রস্তুতি: বাংলাদেশে সরকারি চাকরির বিশাল বাজারে ২০তম গ্রেডের ‘অফিস সহায়ক’ (Office Sohayok) পদটি এখন আর অবহেলার বিষয় নয়। একটা সময় একে ‘এমএলএসএস’ (MLSS) বা পিয়ন বলা হতো, কিন্তু সরকার এর নাম ও মর্যাদা পরিবর্তন করে ‘অফিস সহায়ক’ করেছে। প্রতি বছর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে হাজার হাজার কর্মী এই পদে নিয়োগ পায়।

অফিস সহায়ক এর কাজ ও প্রস্তুতি

কিন্তু আবেদন করার আগে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে—আসলে একজন অফিস সহায়কের কাজ কী? এটি কি শুধুই ফাইলের কাজ নাকি অন্য কিছু? এবং এই তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে মাত্র একটি এসএসসি সার্টিফিকেটে কীভাবে চাকরিটি পাওয়া সম্ভব? আজকের গাইডে আমরা এই পদের আদ্যোপান্ত এবং প্রস্তুতির A-Z রোডম্যাপ আলোচনা করব।

অফিস সহায়ক এর কাজ কি?

অনেকের ধারণা, অফিস সহায়কের কাজ শুধুই চা-পানি খাওয়ানো। এটি ভুল ধারণা। এটি একটি দাপ্তরিক পদ এবং এর নির্দিষ্ট কিছু Administrative Duties রয়েছে।

একজন অফিস সহায়কের মূল দায়িত্বগুলো হলো: ১. ফাইল ব্যবস্থাপনা: অফিসের নথিপত্র বা ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে (কর্মকর্তাদের কাছে) পৌঁছে দেওয়া। ২. ডাক ও চিঠি বিলি: অফিসের অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক চিঠি এবং নোটিশ নির্দিষ্ট দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া। ৩. অফিস সাজসজ্জা: কর্মকর্তার রুম বা অফিস কক্ষ গুছিয়ে রাখা এবং আসবাবপত্র ঠিকঠাক আছে কিনা দেখা। ৪. ফোটোকপি ও বাইন্ডিং: জরুরি কাগজপত্র ফোটোকপি করা এবং সেট সাজানো। ৫. আপ্যায়ন: মিটিং চলাকালীন বা মেহমান আসলে চা-নাস্তা পরিবেশনে সহায়তা করা। ৬. কর্মকর্তাকে সহায়তা: ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দাপ্তরিক কাজে তাৎক্ষণিক নির্দেশ পালন করা।

সহজ কথায়, একটি অফিসের Workflow সচল রাখতে অফিস সহায়ক ইঞ্জিনের লুব্রিকেন্টের মতো কাজ করেন।

আরও পড়ুন: স্নাতক ভর্তিসহায়তা বৃত্তি: বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ

যোগ্যতা ও বয়সসীমা

অফিস সহায়ক পদে আবেদনের যোগ্যতা খুব সাধারণ হওয়ায় প্রতিযোগিতা অনেক বেশি হয়।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রার্থীকে কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে এসএসসি (SSC) বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। (কিছু কিছু দপ্তরে ৮ম শ্রেণি পাস চাওয়া হলেও বর্তমানে এসএসসি স্ট্যান্ডার্ড হয়ে গেছে)।
  • জিপিএ: সাধারণত নির্দিষ্ট জিপিএ চাওয়া হয় না, পাস করলেই আবেদন করা যায়।
  • বয়সসীমা: সাধারণ প্রার্থীদের জন্য ১৮ থেকে ৩০ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী কোটার ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ৩২ বছর।
  • শারীরিক যোগ্যতা: সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে (বড় কোনো শারীরিক সমস্যা থাকা যাবে না)।

বেতন ও সুযোগ-সুবিধা

জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী অফিস সহায়ক একটি ২০তম গ্রেডের পদ।

  • বেতন স্কেল: ৮,২৫০ – ২০,০১০ টাকা।
  • শুরুর মূল বেতন (Basic): ৮,২৫০ টাকা। এর সাথে যুক্ত হবে:
  • বাড়ি ভাড়া: বেসিকের ৪৫%-৬৫% (এলাকাভেদে)।
  • চিকিৎসা ভাতা: ১,৫০০ টাকা।
  • যাতায়াত ও টিফিন ভাতা: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।
  • মোট প্রাপ্তি: চাকরির শুরুতে সাকুল্যে বেতন প্রায় ১৫,০০০ – ১৭,০০০ টাকা হতে পারে। এছাড়াও সরকারি চাকরির পেনশন, গ্রাচুইটি এবং ঈদ বোনাস তো থাকছেই।

নির্বাচন পদ্ধতি ও পরীক্ষার ধরণ

সাধারণত দুটি ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়: ১. লিখিত পরীক্ষা (Written Exam): ৪০, ৫০ বা ৭০ নম্বরের পরীক্ষা হয় (দপ্তরভেদে ভিন্ন হতে পারে)। এটি সাধারণত এমসিকিউ (MCQ) বা লিখিত (Written) উভয়ই হতে পারে। ২. মৌখিক পরীক্ষা (Viva Voce): লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ২০ বা ৩০ নম্বরের ভাইভা নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: হাজী দানেশ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৬: আসন সংখ্যা, যোগ্যতা, ফি ও পরীক্ষার তারিখ

অফিস সহায়ক পরীক্ষার প্রস্তুতি কৌশল

যেহেতু যোগ্যতা এসএসসি পাস, তাই প্রশ্ন সাধারণত ৮ম থেকে ১০ম শ্রেণির মানের হয়। তবে প্রতিযোগিতা বেশি হওয়ায় প্রস্তুতি হতে হবে নিখুঁত।

১. বাংলা (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)

অধিকাংশ প্রশ্ন বাংলা ব্যাকরণ থেকে আসে।

  • টপিক: সন্ধি বিচ্ছেদ, এক কথায় প্রকাশ, বাগধারা, সমার্থক শব্দ, বানান শুদ্ধি এবং কারক-বিভক্তি।
  • টিপস: ৯ম-১০ম শ্রেণির পুরোনো ব্যাকরণ বই এবং ‘সৌমিত্র শেখরের’ বই থেকে মুখস্থ টপিকগুলো পড়ে ফেলুন।
  • সাহিত্য: রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এবং বিখ্যাত কবিদের জন্ম-মৃত্যু ও বিখ্যাত বইয়ের নাম।

২. গণিত (পার্থক্য গড়ার জায়গা)

অনেকেই গণিতে দুর্বল থাকেন, তাই এখানে ভালো করলেই চাকরি নিশ্চিত।

  • পাটিগণিত: ঐকিক নিয়ম, শতকরা, সুদকষা, লসাগু-গসাগু এবং মান নির্ণয়। (৮ম শ্রেণির গণিত বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)।
  • বীজগণিত: সাধারণ সূত্রাবলি ও মান নির্ণয়।
  • জ্যামিতি: ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ ও বৃত্তের সংজ্ঞা ও সূত্র।

৩. ইংরেজি (ভয়ের কারণ নেই)

খুব গভীর গ্রামার আসে না, বেসিক ঠিক থাকলেই চলে।

  • টপিক: Translation (বাংলা থেকে ইংরেজি), Preposition, Idioms & Phrases, Number & Gender change, Paragraph writing (Padma Bridge, Metro Rail type).
  • টিপস: বিগত সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ও অফিস সহায়ক পদের প্রশ্নগুলো সলভ করুন।

৪. সাধারণ জ্ঞান (চলতি বিশ্ব ও বাংলাদেশ)

  • বাংলাদেশ: মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, সংবিধান, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল।
  • আন্তর্জাতিক: রাজধানী, মুদ্রা, এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধ বা ঘটনা।
  • কম্পিউটার: এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল এবং হার্ডওয়্যার সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন।

“অনেকে এই পদটিকে ছোট করে দেখেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো—বর্তমানে মাস্টার্স পাস ছেলেমেয়েরাও এই পদের জন্য আবেদন করছেন। কারণ, এটি একটি স্থায়ী সরকারি চাকরি। তাই যারা এসএসসি পাস করেই আবেদন করছেন, তাদের লিখিত পরীক্ষায় অন্তত ৮০ শতাংশ নম্বর তোলার টার্গেট রাখতে হবে।”

আরও পড়ুনস্নাতক ভর্তিসহায়তা বৃত্তি: বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ