স্নাতক ভর্তিসহায়তা বৃত্তি: অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের অনুদান
স্নাতক ভর্তিসহায়তা বৃত্তি: বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ
- আপডেট সময় : ১০:২৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
স্নাতক ভর্তিসহায়তা বৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার, যা দেশের অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করবে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের অধীনে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (পাস ও অনার্স) বা সমমান শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া বা অধ্যয়নরত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের এই সহায়তা দেওয়া হবে। স্নাতক ভর্তিসহায়তা বৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত যোগ্য শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। গত বুধবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ট্রাস্ট জানিয়েছে, আগামী ৭ ডিসেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হবে এবং তা ৩০ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত চলবে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সহায়তা মূলত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের অংশ হিসেবে প্রদান করা হবে। অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিত করাই এই বৃত্তির মূল লক্ষ্য। ‘ভর্তিসহায়তা প্রদান নির্দেশিকা, ২০২০’ অনুসারে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা হবে। আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীদের ট্রাস্টের https://pmeat.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইনেই ফরম পূরণ করতে হবে। যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল ও অনলাইনভিত্তিক, তাই আবেদনের কোনো হার্ডকপি ট্রাস্টের অফিসে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। তবে আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
আবেদনের শর্তাবলী ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীদের কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কর্মে নিয়োজিত ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে অফিসপ্রধান কর্তৃক প্রদত্ত বেতনের গ্রেড-সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের মাতা, পিতা বা অভিভাবকের বাৎসরিক আয় দুই লাখ টাকার কম হতে হবে এবং এর প্রমাণ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি (ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর) কর্তৃক প্রদত্ত আয়ের সনদপত্র আপলোড করতে হবে।
এছাড়াও, বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কোটার শিক্ষার্থীদের (যেমন: প্রতিবন্ধী, এতিম, ভূমিহীন, নদীভাঙন পরিবারের সন্তান, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত) তাদের দাবির সপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে সর্বশেষ উত্তীর্ণ পরীক্ষার (এইচএসসি বা সমমান) সত্যায়িত নম্বরপত্রের স্পষ্ট কপি আপলোড করা বাধ্যতামূলক।
আবেদন প্রক্রিয়া ও টাকা প্রাপ্তির মাধ্যম
শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ওয়েবসাইটের ‘ভর্তিসহায়তা সেবা’ বক্স থেকে নির্ধারিত প্রত্যয়ন ফরম ডাউনলোড করে তা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিভাগীয় প্রধানের সুপারিশসহ পূরণ করতে হবে। এরপর অনলাইনে আবেদনের সময় এই ফরমটি আপলোড করতে হবে। যদি কোনো শিক্ষার্থী অনলাইনে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুঁজে না পায়, তবে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ট্রাস্টের ঠিকানায় আবেদন করে ই-ভর্তি সহায়তা ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠানটি অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানাতে হবে।
ভর্তিসহায়তার অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ/রকেট/নগদ ইত্যাদি) অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী অথবা তার মাতা-পিতার নিজ নামের ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাকাউন্ট নম্বর ব্যবহার করতে হবে। অ্যাকাউন্টের সত্যতা প্রমাণের জন্য চেক বইয়ের পাতা, ব্যাংক স্টেটমেন্ট অথবা মোবাইল অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি (KYC) বা সচল থাকার প্রমাণপত্র আপলোড করতে হবে। মাতা-পিতার অবর্তমানে আইনগত অভিভাবকের অ্যাকাউন্ট নম্বর গ্রহণযোগ্য হবে।
আবেদন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এবং নির্দেশিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইট shed.gov.bd-তে পাওয়া যাবে। অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।











2 thoughts on “স্নাতক ভর্তিসহায়তা বৃত্তি: বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ”